এক সময় গ্রাম বাংলায় দাপিয়ে বেড়ানো মনোরঞ্জনের একমাত্র মাধ্যেম ছিল কাঠের পুতুল নাচ। সেই সময় এই পুতুল নাচ দেখতে দূর দুরান্তের বহু মানুষ ছুটে আসতেন এই নাচ দেখতে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির দাপটে আজ গ্রাম বাংলা থেকে একপ্রকার হারিয়ে গিয়েছিল মনোরঞ্জনের একমাত্র মাধ্যেম পুতুল নাচ। কারন সময়, বিঞ্জান ও প্রযুক্তির কাছে হার মেনেছে এক কালের এই ঐতিহ্য পূর্ন পুতুল নাচ। আর এই হারিয়ে যাওয়া সেই পাচাত্য ঐতিহ্যকে বাচিয়ে রাখতে ও আজকের প্রজন্মের কাছে সেই ঐতিহ্য তুলে ধরতে অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করে উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জের অনন্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধিন মুকুন্দার ভেলাই কালি পূজা কমেটি।
চলতি বছরে কালিয়াগঞ্জের অনন্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধিন মুকুন্দার ভেলাই কালি পূজা পদার্পন করল ২৫ তম বছরে। আর এই বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে পূজা কমেটির পক্ষ থেকে পূতল নাচের আয়োজন করা হয়। কিন্তু এই পুতুল নাচকে ঘিরে গ্রামের মানুষদের উৎসাহতা ছিল চোখে পড়ার মতো। শুধু গ্রামের লোকেরাই নয় আশে পাশের গ্রামের বহু মানুষ ভিড় জমান পুতুল নাচ দেখতে। কালি পূজাকে ঘিরে যেমন কাঠের পূতুল নাচের আয়োজন হয়েছিল তেমনি পূজোকে কেন্দ্র করে বসেছে মেলা। খাবারের দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামগ্রীর দোকানদারেরা নিজেদের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। যা দেখে কোন ভাবেই মনে হয়না এই বিংশ শতাব্দীর বিঞ্জান ও প্রযুক্তির আলোয় ফিকে পড়েছে পুতুল নাচ।
তাই তো এদিন কাঠের পুতুল নাচ দেখতে এসেছেন সুদূর মালদা জেলা থেকে আগত এক গৃহবধূ। তিনি এদিন পুতুল নাচ দেখে বেজায় খুশি। তিনি জানান, গ্রামে এখন এই সব পুতুল নাচ দেখা যায় না। অনেক দিন পর তারা এই কাঠের পুতুল নাচ দেখতে পেলেন। তাদের খুব ভালো লেগেছে।
'একটা সময় ছিল যখন এই গ্রামের শিল্পীরা একত্রিত হয়ে নিজেরাই কাঠের পুতুল তৈরী করে পুতুল নাচ দেখাতেন। মানুষকে আনন্দ দিতেন, কিন্তু সময়ের সাথে দিন বদলেছে। শুধু রয়ে গেছে কাঠের সেই পুতুল। সেই ঔতিয্য যাতে হারিয়ে না যায় আজকের প্রজন্মের কাছ থেকে সেই কারনে কালিয়াগঞ্জের মুকুন্দার ভেলাইয়ের পূজা কমেটি প্রচেষ্টা চালিয়েছে। এমনটাই জানান পূজা কমেটির অন্যতম সদস্য দিপঙ্কর চক্রবর্তী।
বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন নিচের লিংকে
https://www.youtube.com/embed/ELTXGT2eXRQ